অসাধারণ , অভূতপূর্ব, অবিশ্বাস্য ! হ্যাঁ ঠিক এই ভাবেই হয়তো ব্যাখ্যা করা অসম্ভব বাংলা দলে আজকের দিনটিকে। অন্ধ্রপ্রদেশের প্রথম ইনিংসের ২৯৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে যখন স্কোরবোর্ডে ১৫৩/৫, তখন স্বাভাবিক ভাবেই আশঙ্কা ভর করেছিল—বড় লিড পেয়ে যাবে কি না অন্ধ্র! সেমিফাইনালের স্বপ্ন তখন ঝুলছিল সুতোয়। কিন্তু সেখান থেকেই দৃশ্যপট বদলে দিলেন সুদীপ কুমার ঘরামি। তাঁর লড়াকু, ধৈর্যশীল ডবল সেঞ্চুরিতে ভর করে ফের স্বপ্ন দেখতে শুরু করল বঙ্গ ব্রিগেড।
২৬ বছরের এই ব্যাটার দ্বিতীয় দিনের শেষে অপরাজিত ছিলেন ১১২ রানে। তাঁর সঙ্গে ২২ রানে নট আউট ছিলেন সুমন্ত গুপ্ত। তখনও ৯৬ রানে পিছিয়ে বাংলা। দলের সমস্ত ভরসা ছিল এই জুটির উপর। প্রত্যাশার মর্যাদা রেখেছেন দু’জনেই। চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করে অন্ধ্রপ্রদেশের বোলারদের ধীরে ধীরে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন তাঁরা। ষষ্ঠ উইকেটে তাঁদের ১৬৫ রানের জুটি কার্যত বাংলাকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
সুমন্ত গুপ্ত খেলেন ৮১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। তিনি যখন আউট হয়ে সাজঘরে ফিরছেন, তখন বাংলার স্কোর ৩১৮—অর্থাৎ অন্ধ্রপ্রদেশের প্রথম ইনিংসের রান তখন পিছনে পড়ে গিয়েছে। কিন্তু গল্প তখনও শেষ হয়নি। আট নম্বরে নেমে উইকেটরক্ষক শাকির গান্ধী (৪৫*) দৃঢ়তা দেখান। অন্য প্রান্তে অটল থেকে নিজের ডিফেন্সে ভরসা রাখেন সুদীপ। একের পর এক স্পেল সামলে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি।
দিনের শেষে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ৪৫১ বলের ম্যারাথন ইনিংস খেলে অপরাজিত ২১৬ রানে পৌঁছন সুদীপ কুমার ঘরামি। চাপের মুখে দলকে উদ্ধার করার ক্ষেত্রে তিনি যেন অভ্যস্ত। চলতি রনজি মরশুমেও একাধিকবার তাঁর ব্যাট কথা বলেছে। কোয়ার্টার ফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হল না। সুদীপ আবারও প্রমাণ করলেন—বিপদে তিনিই বাংলার ভরসার নাম।
তৃতীয় দিনের শেষে প্রথম ইনিংসে ১২৩ রানের লিড নিয়েছে অভিমন্যু ঈশ্বরণের দল। ম্যাচের রাশ এখন পুরোপুরি বাংলার হাতে। বড় কোনও অঘটন না হলে প্রথম ইনিংসের লিডের সুবাদে তিন পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত। যদিও এখান থেকেই ম্যাচ জেতার সুযোগও রয়েছে।
তবু বাংলার সমর্থকদের মনে একটা পুরনো ক্ষত এখনও টাটকা। নকআউটে গিয়ে প্রত্যাশার চাপ সামলাতে না পারার ইতিহাস রয়েছে এই দলের। দু’মরশুম আগে সৌরাষ্ট্রর বিরুদ্ধে হারের স্মৃতি এখনও দগদগে। তবে কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন—ন্যাড়া বারবার বেলতলা যায় না। চলতি রনজিতে বাংলার পারফরম্যান্স সেই বিশ্বাসই জোগাচ্ছে।
উপরন্তু, এই দলে রয়েছে মহম্মদ শামি, আকাশ দীপ, মুকেশ কুমার, শাহবাজ আহমেদের মতো আন্তর্জাতিক মানের বোলাররা। লিড হাতে নিয়ে তাঁদের হাতেই এখন ম্যাচ শেষ করার দায়িত্ব। সুদীপের ডবল সেঞ্চুরিতে ভর করে যে স্বপ্নের দরজা খুলেছে, সেটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সব রসদই এই মুহূর্তে রয়েছে বঙ্গ ব্রিগেডের হাতে।

