রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বাংলা। দ্বিতীয় দিনের শেষে বাংলার স্কোর ৫ উইকেটে ১৯৯। যদিও এখনও অন্ধ্রপ্রদেশের প্রথম ইনিংসের ২৯৫ রানের থেকে ৯৬ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা। কিন্তু এই কঠিন অবস্থায় বাংলার ইনিংসকে ভরসা জুগিয়েছেন সুদীপ কুমার ঘড়ামি, যিনি অপরাজিত ১১২ রানে দিন শেষ করেছেন।
দিনের শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলা। মাত্র ৪৩ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে দল। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ মাত্র ১ রান করে ফিরে যান। পঞ্চম ওভারে অন্ধ্রপ্রদেশের পেসার কালিদিন্দি রাজুর বলে কভারে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচ নেন শাইক রশিদ। দ্রুত ফিরে যান সুদীপ চট্টোপাধ্যায় ও অনুষ্টুপ মজুমদারও। ফলে বড় বিপদের মুখে পড়ে যায় বাংলা শিবির।
এই সময়ই দায়িত্ব নেন সুদীপ ঘড়ামি। চাপের মুখে ধৈর্য আর সংযম দেখিয়ে ইনিংস গড়তে থাকেন তিনি। চতুর্থ উইকেটে সূরজ সিন্ধু জয়সওয়ালের সঙ্গে ৮০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলার ইনিংসে স্থিতি ফেরান ঘড়ামি। জয়সওয়াল আউট হয়ে গেলেও ঘড়ামি নিজের মনোযোগ ধরে রাখেন এবং এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন।
২৬ বছর বয়সি এই ব্যাটার শেষ সেশনে নিজের সপ্তম প্রথম শ্রেণির শতরান পূর্ণ করেন। কালিদিন্দি রাজুর একটি শর্ট বল পুল করে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগ দিয়ে চার মেরে তিন অঙ্ক ছোঁন তিনি। শতরান পাওয়ার পরও আগ্রাসী না হয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে থাকেন ঘড়ামি। দিনের শেষদিকে অন্ধ্রপ্রদেশ শর্ট বল কৌশল নিয়েই আক্রমণ চালাতে থাকে ঘড়ামি ও সুমন্ত গুপ্তর বিরুদ্ধে। তবে দু’জনেই কোনও ভুল না করে ৪৬ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে দিন শেষ করেন।
এর আগে দিনের প্রথমার্ধে বাংলার বোলাররা অন্ধ্রপ্রদেশকে বড় লিড নিতে দেননি। মুকেশ কুমার নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন ৮৬তম ওভারে পরপর দু’টি আঘাতে। তিনি শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট নেন ৬৬ রানে। আকাশ দীপও দারুণ সহায়তা করেন, ৪ উইকেট নেন ৭৯ রানে। অন্ধ্রপ্রদেশের লোয়ার অর্ডারে সৌরভ কুমার ১৮ রান করে কিছুটা ঝড় তুলতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত আকাশ দীপের নিখুঁত ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে যান।
ম্যাচ এখনও বাংলার জন্য কঠিন জায়গায় রয়েছে। তবে ঘড়ামির লড়াকু শতরান বাংলাকে নতুন আশা দেখাচ্ছে। তৃতীয় দিনে তাঁর ইনিংস কতদূর এগোয় এবং বাংলা লিড কমাতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার।

