বড় ম্যাচে বড় খেলোয়াড় চেনা যায়—এই কথাটাই আবার প্রমাণ করে দিল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল। শুক্রবার ফাইনালের মঞ্চে যে ইনিংসটি খেললেন বৈভব সূর্যবংশী, তা শুধু ভারতের জয় নিশ্চিত করেনি, ভবিষ্যতের এক তারকার আগমনের বার্তাও দিয়ে গেল। চাপের মুহূর্তে নিজেকে মেলে ধরতে পারাই বড় খেলোয়াড়ের আসল পরিচয়, আর বৈভব সেই পরীক্ষায় অনায়াসে পাশ করলেন।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে পাহাড়প্রমাণ ৪১১/৯। সেই রানের ভিতটাই গড়ে দেন বৈভব। শুরুতে তিনটি বল তিনি খেলেন রান ছাড়া, যা দেখে অনেকেই একটু অবাক হয়েছিলেন। কারণ বৈভব সাধারণত প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক। কিন্তু বড় মঞ্চে পরিস্থিতি বুঝে খেলাটাই যে আসল, তা চতুর্থ বলেই প্রমাণ করেন। অ্যালেক্স গ্রিনকে চার মেরে খাতা খুলে দেন তিনি। নবম ওভারে সেই গ্রিনের এক ওভারে ১৮ রান তুলে নেন। ৩২ বলে অর্ধশতরান করার পর থেকেই পুরোপুরি হাত খুলে খেলতে শুরু করেন বৈভব। প্রথম দিকে চারেই বেশি ভরসা ছিল, কিন্তু সেট হয়ে যাওয়ার পর ছয়ের বন্যা বইয়ে দেন। ফারহান আহমেদের এক ওভারে তিনটি ছয় ও একটি চার মেরে নেন ২২ রান। প্রথম ৫০ আসে ৩২ বলে, আর পরের ৫০ মাত্র ২২ বলেই। শেষ পর্যন্ত ৫৫ বলে দুরন্ত শতরান—ফাইনালের মঞ্চে যা নিঃসন্দেহে স্মরণীয়।
৪১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরুটা করে ধীর গতিতে। প্রতি ওভারে পাঁচের একটু বেশি করে রান উঠছিল। জোসেফ মুরেসকে (১৭) ফিরিয়ে ভারত প্রথম সাফল্য পায়। এরপর বেন ডকিন্স ও বেন মায়েস আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। দু’জনের জুটিতে আসে ৭৪ রান। মায়েস (৪৫) আউট হলেও ডকিন্স আগ্রাসন ধরে রাখেন। কিন্তু ডকিন্স ও রিউ ফিরতেই ইংল্যান্ডের ইনিংসের ভিত নড়ে যায়। অষ্টম উইকেটে সেলেব ফ্যালকনার ও জেমস মিন্টো ৯২ রানের জুটি গড়ে কিছুটা চাপ তৈরি করেছিলেন। মিন্টো (২৮) আউট হওয়ার পরেও ফ্যালকনার লড়াই চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত তিনি ৬৭ বলে ১১৫ রান করে আউট হন, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ইংল্যান্ড শেষ হয়ে যায় ৩১১ রানে।
এই জয়ের মাধ্যমে ভারত ছ’বার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতল। শুধু তাই নয়, গত তিন বছরে ভারত জিতেছে পাঁচটি বিশ্বকাপ। এর আগে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল দু’বার বিশ্বকাপ জিতেছে, মেয়েদের সিনিয়র দল জিতেছে এক দিনের বিশ্বকাপ, ছেলেরা জিতেছে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, আর এবার ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলও বিশ্বজয়ী।
এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি। এক সময় এই দল নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও বোর্ড বুঝতে পেরেছিল, নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় না খেলার অভাবই মূল সমস্যা। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ় খেলে, এশিয়া কাপ জিতে বিশ্বকাপে আসার ফলই মিলেছে ফাইনালে। দলের মধ্যে তৈরি হওয়া বন্ধন আর চাপ সামলানোর মানসিকতাই ভারতকে আবারও বিশ্বসেরা করে ।

