নয়াদিল্লি : এসআইআর-এর নানা অসঙ্গতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলা আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ফের শুনবে সুপ্রিম কোর্ট।
বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এসআইআর মামলার শুনানি হয়। যেখানে ‘পার্টি ইন পার্সন’ হিসেবে বাংলার মানুষের হয়রানির কথা তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করে বলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আর মাত্র ১১ দিন বাকি। শুনানি শেষ করার জন্য হাতে আছে মাত্র ৪ দিন। ৩২ লক্ষ ভোটারকে ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।”
তিনি বলেন যে, “খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ১.৩৬ কোটি ভোটার (প্রায় ২০ শতাংশ) প্রভাবিত হয়েছেন। ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে এখনও পর্যন্ত ৮৮ লক্ষ মানুষের শুনানি হয়েছে। প্রতি দিন গড়ে ১.৮ লক্ষ মানুষের শুনানি হয়েছে। এখনও ৬৩ লক্ষ মানুষের শুনানি বাকি। নির্ধারিত সময়ে শুনানি শেষ করতে হলে প্রতি দিন ১৫.৫ লক্ষ শুনানি করতে হবে – যা বাস্তবে অসম্ভব। ৮৩০০ জন মাইক্রো অবজ়ারভার নিয়োগ করা হয়েছে, যার কোনও আইনি ভিত্তি নেই।
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী এ-ও বলেন যে, পরিবারপঞ্জী (ফ্যামিলি রেজিস্টার), আধার কার্ড, ওবিসি শংসাপত্র— কোনওটাই আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও আলাদা ভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে।”
মামলার শুনানিতেই নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সহানুভূতিশীল হতে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে এসআইআর শুনানিতে মাইক্রো অবজার্ভারদের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করে।
বাংলায় চলা এসআইআরে কী কী পদক্ষেপ করছে নির্বাচন কমিশন, তা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়ায় কত অফিসার দিতে পারবে রাজ্য, তাও নবান্নকে জানাতে এদিন নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

