শাহবাজের ঘূর্নিতে চূর্ণ হরিয়ানা,  রঞ্জিতে গ্রুপ শীর্ষে বাংলা !

রনজি ট্রফির গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হরিয়ানার বিরুদ্ধে একতরফা দাপটের সঙ্গে সহজ জয় তুলে নিল বাংলা। নকআউট পর্বে ওঠা আগেই নিশ্চিত থাকলেও, শেষ ম্যাচে তিন দিনের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করে নিজেদের শক্তি আরও একবার প্রমাণ করলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। লাহলিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ১৮৮ রানে জয় পেল বাংলা, যার মূল কারিগর ছিলেন অলরাউন্ডার শাহবাজ আহমেদ।
প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলার ব্যাটিং ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুরো দল গুটিয়ে যায় মাত্র ১৯৩ রানে। একপ্রান্ত আগলে লড়াই চালান সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ঝকঝকে ৮৬ রানের ইনিংস না হলে স্কোর আরও কম হতে পারত। টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের একের পর এক ব্যর্থতায় চিন্তা বাড়ে বাংলার শিবিরে। তবু বোলারদের দাপটে দ্রুত ম্যাচে ফেরে দল।
হরিয়ানার প্রথম ইনিংসে আকাশ দীপ ও শাহবাজ আহমেদের তাণ্ডবের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি প্রতিপক্ষ। মাত্র ৩১.১ ওভারে ১০০ রানে শেষ হয়ে যায় হরিয়ানার ইনিংস। আকাশ দীপ ৪০ রানে ৫ উইকেট নেন, অন্যদিকে শাহবাজ আহমেদ ৪২ রানে তুলে নেন ‘ফাইফার’। ফলে প্রথম ইনিংসেই বড় লিড পায় বাংলা।
দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও ব্যাটিংয়ে ছন্দহীনতা দেখা যায় বাংলার। দ্বিতীয় দিনের শেষে ৩ উইকেটে ১৫৫ রান থাকলেও, শেষ পর্যন্ত ইনিংস থামে ২০০ রানে। অল্প রানের মধ্যেই পড়ে যায় ৭ উইকেট। অনুষ্টুপ মজুমদার, রাহুল প্রসাদ, শাহবাজ আহমেদ কেউই রান পাননি। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ দায়িত্ব নিয়ে ৮৩ রান করেন। তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সুদীপ কুমার ঘরামি, যিনি করেন ৬১ রান। হরিয়ানার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯৪।
চতুর্থ ইনিংসে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হরিয়ানার ব্যাটিং কার্যত ভেঙে পড়ে শাহবাজ আহমেদের ঘূর্ণিতে। প্রথম পাঁচটি উইকেটই তাঁর দখলে যায়। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকেন অংশুল কাম্বোজরা। মহম্মদ শামি না থাকলেও মুকেশ কুমার (৪০/২) ও আকাশ দীপ (২১/১) যোগ্য সঙ্গ দেন। শেষ পর্যন্ত ৩৮ রানে ৬ উইকেট নিয়ে শাহবাজ ম্যাচ সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন। হরিয়ানার ইনিংস শেষ হয় মাত্র ১০৫ রানে।
এই জয়ের ফলে ৭ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকেই অভিযান শেষ করল বাংলা। তবে নকআউটের আগে ব্যাটিং ব্যর্থতা যে চিন্তার কারণ, তা স্পষ্টই রয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − thirteen =