কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গর মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা এলাকায় ঘটে যাওয়া হিংসার ঘটনার তদন্ত এবার করবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে যখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ সফরে রয়েছেন। উল্লেখ্য যে, গত ১৬ জানুয়ারি ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেলডাঙা এলাকায় হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। বিক্ষোভকারীরা রেললাইন এবং জাতীয় সড়ক দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে অবরোধ করে রেখেছিলেন। এই সময় পুলিশকর্মী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরদিনও এই হিংসা অব্যাহত ছিল, যার ফলে জাতীয় সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছিল, যার পরেই অবরোধ সরানো সম্ভব হয়।
এই মামলায় এপর্যন্ত মোট ৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে হায়দরাবাদের সংখ্যালঘু রাজনৈতিক দল অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর এক নেতাও রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই গ্রেফতারি করা হয়েছে।
বেলডাঙার এই হিংসা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনহিতকর মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং এনআইএ তদন্তের দাবি জানানো হয়। এই আবেদনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে এই মামলার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, বেলডাঙায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মোতায়েন জারি থাকবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাহিনীও পাঠানো যেতে পারে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই আদেশটি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দায়ের করা জনহিতকর মামলার শুনানির পর দেওয়া হয়েছে। আদালত মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকেও নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা ১৫ দিনের মধ্যে হলফনামা দাখিল করে এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

