প্রবীনের বদলে মঘারিয়া, ভোটের আগে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের শীর্ষে নতুন মুখ।

হাওড়া: বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য পুলিশের প্রশাসনিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল। আর সেই রদবদলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হাওড়ার নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আইপিএস অফিসার আকাশ মঘারিয়া। তিনি এই দায়িত্বে এলেন প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হাওড়ার কমিশনার পদ থেকে সরে প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠীকে পাঠানো হয়েছে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের শীর্ষ দায়িত্বে।

নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট, পুরো বদলি প্রক্রিয়ার সূচনা ও ফোকাস ছিল হাওড়াকে ঘিরেই। শিল্পাঞ্চল, রেল-সড়ক যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু এবং ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে হাওড়া বরাবরই রাজ্য পুলিশের কাছে একটি সংবেদনশীল ইউনিট। প্রতিদিনের ট্রাফিক চাপ, শিল্পঘটিত সমস্যা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘনঘটা—সব মিলিয়ে এই কমিশনারেট সামলানো প্রশাসনিক দক্ষতার বড় পরীক্ষা। সেই কারণেই নেতৃত্ব বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
নতুন কমিশনার আকাশ মঘারিয়াকে হাওড়ার দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও সংগঠনিক দক্ষতার দিকটি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, “হাওড়ার মতো জায়গায় শুধু কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দরকার।” নবান্নের অন্দরমহলে আলোচনা, হাওড়ায় আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও দৃশ্যমান গতি আনতেই এই নিয়োগ।
অন্যদিকে, হাওড়ার বিদায়ী কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠীর জন্য নতুন দায়িত্বও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাঁকে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে, যা শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকার মিশ্রণে গঠিত একটি জটিল ইউনিট। হাওড়ায় থাকাকালীন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা এবং অপরাধ দমনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা প্রশাসনের নজর কেড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাই এবার ব্যারাকপুরে কাজে লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এই বদলি কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নয়। সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। এক শীর্ষ পুলিশ কর্তার মন্তব্য, “এটা ব্যক্তি বদল নয়, দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস।”
সব মিলিয়ে, হাওড়ার কমিশনার পদে নতুন মুখ আনা এবং সেখান থেকে অভিজ্ঞ অফিসারকে অন্য গুরুত্বপূর্ণ কমিশনারেটে পাঠানো—এই দুই ধাপেই রাজ্য পুলিশের প্রশাসনিক কৌশল স্পষ্ট। অভিজ্ঞ মহলের মতে, এই রদবদল হাওড়ায় যেমন নতুন গতি আনবে, তেমনই অন্যত্র অভিজ্ঞতার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × five =