আবারো দুরন্ত শামি ! সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে জয় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা

রঞ্জি ট্রফির দ্বিতীয় পর্বে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে বাংলা। ম্যাচের শুরু থেকেই ব্যাটে-বলে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন লক্ষীরতন শুক্লার দল। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলার ব্যাটাররা সার্ভিসেসের বোলারদের কার্যত অসহায় করে দেন।
ইনিংসের মূল স্তম্ভ ছিলেন সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ২০৯ রানের অনবদ্য ডাবল সেঞ্চুরির উপর ভর করে বিশাল রানের পাহাড় গড়ে তোলে বাংলা। সুদীপের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন অভিমন্যু ঈশ্বরন ও শাকির হাবিব গান্ধী। তাঁদের ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৫১৯ রানের শক্ত ভিত পায় বাংলা। এই বড় স্কোরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় সার্ভিসেস। দ্বিতীয় দিনের শেষেই বাংলার বোলারদের তোপে ১২৬ রানে আট উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা। তৃতীয় দিনেও সেই দাপট বজায় রাখেন বাংলার বোলাররা। প্রথম ইনিংসে একাই পাঁচ উইকেট নিয়ে সার্ভিসেসের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন মহম্মদ সামি। মাত্র ৬০ রান যোগ করতেই অল আউট হয়ে যায় সার্ভিসেস। ৩৩৩ রানে এগিয়ে থেকে ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলা।
ফলো-অনেও শুরুটা ভয়াবহ হয় সার্ভিসেসের। মাত্র ১৭ রানের মধ্যেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার ফিরে যান। শুবমান রোহিল্লা শূন্য রানে এবং রবি চৌহান আট রানে আউট হন মহম্মদ সামির বলে। অপর ওপেনার গৌরব কোচারকে ফেরান মুকেশ কুমার। চতুর্থ উইকেটে কিছুটা লড়াই দেখান মোহিত আহলাওয়াল ও অধিনায়ক রজত পালিওয়াল। তাঁদের ১১৯ রানের জুটি কিছুটা আশা জাগালেও, সেই জুটি ভেঙে দেন মুকেশ কুমার। ৯৩ বলে ৬২ রান করে আউট হন মোহিত।
এরপর সামি ফেরান রজত পালিওয়ালকে। ১৬০ বলে ৮৩ রানের ইনিংস খেললেও দলের বিপর্যয় ঠেকাতে পারেননি তিনি। লোয়ার মিডল অর্ডারে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে সার্ভিসেসের আশা শেষ করে দেন সামি। বিনীত ধনখড় ও অর্জুন শর্মাকেও ফেরান তিনি। তৃতীয় দিনের শেষে সার্ভিসেস আট উইকেটে ২৩১ রানে দাঁড়িয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে সামির সংগ্রহ ৫১ রানে পাঁচ উইকেট, ম্যাচে মোট সাতটি। ১০২ রানে পিছিয়ে সার্ভিসেস। সব মিলিয়ে চতুর্থ দিনে বাংলার জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × two =