সরকারি ঘোষনা ! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে ছেটে ফেললো আইসিসি, পরিবর্ত স্কটল্যান্ড

বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ১৪ দিন আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তৈরি হল অভূতপূর্ব অচলাবস্থা ও চাঞ্চল্য। বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের জেরে শেষ পর্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত নিল আইসিসি। ভারতে খেলতে আসতে অস্বীকার করায় বিশ্বকাপ থেকে ছেঁটে ফেলা হল বাংলাদেশকে। তাদের পরিবর্তে গ্রুপ সি-তে জায়গা পেল স্কটল্যান্ড। ইতালি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও নেপালের সঙ্গে একই গ্রুপে খেলতে দেখা যাবে স্কটিশ জাতীয় দলকে।
বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। একাধিকবার আইসিসি কড়া বার্তা পাঠিয়েও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে নমনীয় করতে পারেনি। নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে সিদ্ধান্ত বদলানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এমনকি ভারতের তরফে পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাসও দেওয়া হয়। কিন্তু সব অনুরোধ ও আশ্বাস সত্ত্বেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত আইসিসি বিকল্প রাস্তা বেছে নিতে বাধ্য হয়।
ঘটনার সূত্রপাত মূলত মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে ছেঁটে ফেলার পর। সেই ঘটনার পরই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তাদের দাবি ছিল, একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত করা না যায়, তবে কীভাবে পুরো দল, সাপোর্ট স্টাফ, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব? এই যুক্তিতেই তারা বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারতে না খেলে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আইসিসি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি।
বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকেও আইসিসির উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়। হুমকি দেওয়া হয়, বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষ ক্রিকেট দেখে—এই বিশাল দর্শকশ্রেণির সমর্থন হারাতে পারে আইসিসি। তবে সেই হুমকিকেও গুরুত্ব দেয়নি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা। বরং তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত সূচি ও আয়োজনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ওই দেশের ক্রিকেটের জন্য বড়সড় ধাক্কা। এমনিতেই আর্থিক সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্থিতিশীল নয়। তার উপর বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার অর্থ হল বিপুল রাজস্ব ক্ষতি, স্পনসর হারানোর আশঙ্কা এবং ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়া। এমনকি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সাময়িক নির্বাসনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল স্কটল্যান্ড। দীর্ঘদিন ধরেই সহযোগী দেশগুলো মূল মঞ্চে আরও সুযোগের দাবি জানিয়ে আসছিল। বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি সেই দাবিকে নতুন করে জোরালো করল।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অনড় অবস্থান এবং আইসিসির কঠোর সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক নজিরবিহীন অধ্যায় তৈরি করল। এই ঘটনার প্রভাব শুধু আসন্ন বিশ্বকাপেই নয়, ভবিষ্যতে আইসিসি ও সদস্য দেশগুলোর সম্পর্কের সমীকরণেও গভীর ছাপ ফেলবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 − 2 =