মুম্বই : অভিনেতা তথা স্বঘোষিত চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল রশিদ খান ওরফে কেআরকে-র বিরুদ্ধে চলা গুলিচালনা মামলায় শুক্রবার এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানি সম্পন্ন হলো মুম্বইয়ের বান্দ্রা আদালতে। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত কেআরকে-কে আগামী ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
শুনানি চলাকালীন পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার সময় দু’রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি কার্তুজও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই গুলিচালনার উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। তবে জন নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার গভীরে যেতে তদন্ত জারি রয়েছে।
অন্যদিকে, কেআরকে-র আইনজীবী পুলিশের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, গুলি চালিয়েছে কোনো এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি। পুলিশ যে দুটি ফ্ল্যাটের দিকে গুলি চালানোর কথা বলছে, তাদের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৪০০ মিটার। কিন্তু যে আগ্নেয়াস্ত্রের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে, তার মারণ ক্ষমতা বড়জোর ২০ মিটার পর্যন্ত। ফলে কেআরকে-র বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তাঁর আইনজীবী।
শুনানি চলাকালীন কেআরকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগসূত্র নেই এবং তিনি ওই আততায়ীকে চেনেন না। তাঁর দাবি, তাঁর কাছে বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে এবং তিনি মুম্বইয়ের একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। কেআরকে-র অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমে সিনেমা ও চলচ্চিত্র তারকাদের নিয়ে মন্তব্য করার কারণে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে এবং এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত কেআরকে-কে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জানুয়ারি রাতে অন্ধেরির ওশিওয়ারা এলাকার একটি আবাসিক বহুতলে গুলি চলার শব্দ শোনা গিয়েছিল। যদিও এই ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং কোনও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি।

