সময়ই মানুষের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। জীবনের ওঠানামা, সাফল্য-ব্যর্থতা—সবকিছুর মধ্য দিয়েই সময় মানুষকে শেখায় ধৈর্য আর প্রত্যাবর্তনের মূল্য। সেই শিক্ষাই যেন নতুন করে মিলল ঈশান কিষানের ব্যাটে। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে খুব একটা আশাবাদী ছিলেন না তিনি। অথচ সময়ের নিয়মে ফিনিক্স পাখির মতোই আবার ফিরলেন ভারতীয় দলে, আর ফিরেই দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে কার্যত ‘সবক’ শেখালেন নিউজিল্যান্ডকে।
রায়পুরে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২০৯ রানের বিশাল লক্ষ্য মাত্র ১৫.২ ওভারে, ২৮ বল বাকি থাকতেই টপকে গেল ভারত। ঈশান কিষানের ঝোড়ো ইনিংস যেমন ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেয়, তেমনই দীর্ঘ ১৪ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাফসেঞ্চুরি করে স্বস্তির হাসি ফেরালেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। দু’জনের ব্যাটে ভর করেই সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া।
এর আগে অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে প্রথম ম্যাচে ৪৮ রানে জিতে বিশ্বকাপ ‘প্রস্তুতি’ শুরু করেছিল ভারত। দ্বিতীয় ম্যাচেও লক্ষ্য ছিল সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। রায়পুরে টস জিতে সূর্যকুমার যাদব নিউজিল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান। রাচীন রবীন্দ্র ও মিচেল স্যান্টনারের সুবাদে কিউইরা ২০০ রানের গণ্ডি পার করে। স্যান্টনার ২৭ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ভারতের হয়ে কুলদীপ যাদব ৩৫ রানে ২টি উইকেট নেন। হার্দিক পাণ্ডিয়া, হর্ষিত রানা, বরুণ চক্রবর্তী, অভিষেক শর্মা ও শিবম দুবে একটি করে উইকেট ভাগ করে নেন।
কিন্তু লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। সঞ্জু স্যামসন (৬) ও অভিষেক শর্মা (০) দ্রুত ফিরতেই ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। ঠিক সেই সময়ই খাদের কিনারা থেকে ভারতকে টেনে তোলেন ঈশান কিষান ও সূর্যকুমার যাদব। ঈশান মাত্র ২১ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। অন্য প্রান্তে সূর্য অ্যাঙ্কারের ভূমিকায় থেকে ইনিংস গুছিয়ে নেন। তাঁদের ১২২ রানের জুটি কার্যত ম্যাচের রং বদলে দেয়।
ইশ সোধির বলে ছয় মারতে গিয়ে ৩২ বলে ৭৬ রানে আউট হন ঈশান। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা। বছরখানেক আগে ডাবল সেঞ্চুরির পর যাঁর জায়গা জাতীয় দলে পাকা বলেই মনে করা হয়েছিল, সেই ঈশানই একসময় বিসিসিআইয়ের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছিলেন। সেখান থেকেই এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার।
ঈশান ফিরলেও রানের গতি কমেনি। সূর্যকুমার যাদব নিজের চেনা ছন্দে ব্যাট করে ২৩ বলে ২২তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি হাফসেঞ্চুরি করেন। শিবম দুবের সঙ্গে তাঁর ৮১ রানের জুটিও নিশ্চিত করে দেয় জয়। শেষ পর্যন্ত সূর্য ৩৭ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন। ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৪টি ছয়।
দুটি বড় জুটি আর দুটি বড় ইনিংসের সৌজন্যে সহজ জয় তুলে নেয় ভারত। রায়পুরে জিতে সিরিজ এখন ভারতের পক্ষে ২-০। তৃতীয় টি-টোয়েন্টি রবিবারআর টিম ইন্ডিয়ার আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে।

