নাগপুরে বুধবার নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে একাধিক নজির গড়ল ভারতীয় দল। আগ্রাসী ব্যাটিং, কার্যকর ফিনিশিং ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বোলারদের অবদানে ৪৮ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজের শুরুটা দারুণভাবে করল সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন নিউ জ়িল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। তবে সেই সিদ্ধান্ত যে ভুল প্রমাণিত হবে, তা শুরু থেকেই বুঝিয়ে দেন ভারতীয় ব্যাটাররা। ওপেনিংয়ে নেমে অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ইনিংস শুরু করেন। যদিও সঞ্জু (১০) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা ঈশান কিশনও (৮) ব্যর্থ হন। ফলে ২৭ রানের মধ্যেই ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় ভারত।
কিন্তু সেই চাপ দ্রুত কাটিয়ে তোলেন অভিষেক শর্মা ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। সূর্য নিজের চেনা ছন্দে না থাকলেও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ইনিংস সামাল দেন। ২২ বলে ৩২ রানের ইনিংসে ৪টি চার ও ১টি ছয় মারেন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তাঁর এই ইনিংস কোচ গৌতম গম্ভীরের কাছে স্বস্তির বার্তা দিল। অন্য প্রান্তে অভিষেক ছিলেন একেবারে আগুনে মেজাজে। নিউ জ়িল্যান্ডের বোলারদের কার্যত নাস্তানাবুদ করে ৩৫ বলে ৮৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৮টি ছয়। সহজাত ভঙ্গিতে বড় শট খেলে ভারতের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন অভিষেক।
মাঝের ওভারগুলিতে হার্দিক পাণ্ড্য ১৬ বলে ২৫ রান করে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। যদিও শিবম দুবে (৯) ব্যর্থ হন। শেষদিকে আসল ঝড় তোলেন রিঙ্কু সিং। গম্ভীর তাঁকে সাত নম্বরে পাঠান এবং রিঙ্কু আবারও ফিনিশারের ভূমিকায় নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন। ২০ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করেন তিনি, মারেন ৪টি চার ও ৩টি ছয়। তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিংয়েই ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে তোলে ২৩৮ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ দলগত রান। পাশাপাশি এই ম্যাচে ভারতের ১৪টি ছক্কাও কিউয়িদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ৪৪তম বার ২০০ বা তার বেশি রান করল ভারত—যা আর কোনও দলের নেই।
২৩৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউ জ়িল্যান্ড শুরু থেকেই চাপে ছিল। ভারতীয় বোলাররা নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রাখেন। শিবম সবচেয়ে সফল বোলার হিসেবে ২৮ রানে ২ উইকেট নেন, শেষ ওভারে তুলে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। বরুণ চক্রবর্তী ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন। অর্শদীপ সিং নতুন ও পুরনো বল—দুই হাতেই কার্যকর বোলিং করে ৩১ রানে ১ উইকেট নেন। হার্দিকও ২০ রানে ১ উইকেট পান। অক্ষর প্যাটেল ৪২ রানে ১ উইকেট নিলেও ফিল্ডিং করতে গিয়ে আঙুলে চোট পান, যা বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় শিবিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বুমরাহ এ দিন উইকেট না পেলেও রান নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন।
শেষ পর্যন্ত নিউ জ়িল্যান্ড ৭ উইকেটে ১৯০ রানেই থেমে যায়। নজির গড়া এই ম্যাচে ব্যাটিং শক্তি ও দলগত পারফরম্যান্সে ভর করেই আত্মবিশ্বাসী জয় পেল ভারত।

