বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির উপর। বিসিসিআইয়ের কেন্দ্রীয় চুক্তির কাঠামো বদলে গেলে এক ধাক্কায় তাঁদের বার্ষিক বেতন কমতে পারে প্রায় ৪ কোটি টাকা করে। বিষয়টি চাঞ্চল্যকর এই কারণেই যে, কোহলির ফর্ম বা রোহিতের অবদান—কোনওটাই প্রশ্নের মুখে নয়। তবু কেন এই সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে চাইছে অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি, তা নিয়েই এখন ক্রিকেটমহলে জোর আলোচনা।
বর্তমানে বিসিসিআইয়ের কেন্দ্রীয় চুক্তি চারটি বিভাগে বিভক্ত—এ+, এ, বি ও সি। এ+ গ্রেডে রয়েছেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, জশপ্রীত বুমরাহ এবং রবীন্দ্র জাদেজা। এই গ্রেডে থাকার সুবাদে তাঁরা প্রত্যেকে বছরে ৭ কোটি টাকা করে পান। কিন্তু সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগরকরের নির্বাচক কমিটি এই এ+ বিভাগটিই তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় চুক্তির কাঠামো আরও সরল করে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হতে পারে।
এই প্রস্তাব কার্যকর হলে রোহিত ও কোহলি সরাসরি দুই ধাপ নেমে বি বিভাগে চলে যেতে পারেন, যেখানে বার্ষিক বেতন ৩ কোটি টাকা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এ+ থেকে সরাসরি বি গ্রেডে নামানো কেন? কেন তাঁদের এ গ্রেডে রাখা হচ্ছে না? বিসিসিআইয়ের এক কর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামোতে খেলোয়াড়দের ঐতিহ্য, অতীত সাফল্য বা সিনিয়রিটির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে তাঁরা বর্তমানে কতগুলি ফরম্যাট খেলছেন, তার উপর। অর্থাৎ ‘ফরম্যাট-ভিত্তিক মূল্যায়ন’-ই হতে চলেছে কেন্দ্রীয় চুক্তির মূল ভিত্তি।
এই প্রেক্ষাপটে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির অবস্থান কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে। কারণ দু’জনেই এখন শুধুমাত্র ওয়ানডে ফরম্যাট খেলেন। তাঁরা টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন। অন্যদিকে যাঁরা একাধিক ফরম্যাটে নিয়মিত খেলছেন, ভবিষ্যৎ দলের পরিকল্পনায় যাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তাঁদেরই বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে বোর্ড। এক বোর্ড কর্তা জানিয়েছেন, “এখনও সব চূড়ান্ত হয়নি। তবে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট, ফরম্যাটের সংখ্যা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় চুক্তি সাজানোর চেষ্টা চলছে।”
এই প্রসঙ্গে বর্তমান গ্রেড কাঠামোর কয়েকটি উদাহরণও উল্লেখযোগ্য। গ্রেড এ-তে থাকা শুভমান গিল বর্তমানে দুই ফরম্যাটের অধিনায়ক এবং তিনি পান বছরে ৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব রয়েছেন গ্রেড বি-তে, তাঁর বার্ষিক পারিশ্রমিক ৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ অধিনায়কত্ব বা জনপ্রিয়তা নয়, বরং সক্রিয় ভূমিকা ও ফরম্যাটের সংখ্যা—এই দুইয়ের উপরেই ভবিষ্যতে বেতন কাঠামো নির্ভর করতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কেন্দ্রীয় চুক্তির এই সম্ভাব্য বদল ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দিচ্ছে। অভিজ্ঞতা ও তারকাখ্যাতির পাশাপাশি এখন গুরুত্ব পেতে চলেছে বর্তমান অবদান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। এপেক্স কাউন্সিলের পরবর্তী বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা ক্রিকেট মহল। সাধারণত এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় চুক্তি ঘোষণা হয়। সেখানেই স্পষ্ট হবে—রোহিত-কোহলিদের যুগে কেন্দ্রীয় চুক্তির সংজ্ঞা কতটা বদলাতে চলেছে।

