ওয়াশিংটন সুন্দরের চোটে ছিটকে যাওয়া ভারতীয় দলে যে বদলি নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হবে, তা অনেকেই আন্দাজ করেছিলেন। কিন্তু রাজকোটের ম্যাচের পর সেই বিতর্ক আরও তীব্র আকার নিয়েছে। স্পিনিং অলরাউন্ডারের জায়গায় স্পিনিং অলরাউন্ডার নেওয়ার যুক্তি দেখিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে দলে আনা হয়েছিল গৌতম গম্ভীরের ‘স্নেহধন্য’ আয়ুষ বাদোনিকে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর পরিবর্তে সুযোগ পেলেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডি। যিনি না ব্যাটে, না বলে—দুটো বিভাগেই ব্যর্থ। ফলত প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনী যুক্তির ধারাবাহিকতা আদৌ ছিল কি না।
রাজকোটে নীতীশকে খেলানো হলেও তাঁর ব্যবহার ছিল বিস্ময়কর। ব্যাট হাতে তিনি পেলেন যথেষ্ট সময় ও পরিস্থিতি, কিন্তু ২০ রানের বেশি এগোতে পারলেন না। বল হাতেও তাঁর ভূমিকা ছিল প্রায় নামমাত্র—মাত্র দু’ওভারের একটু বেশি। একজন অলরাউন্ডারকে খেলিয়ে যদি তাঁর দু’টি দিকের কোনোটিই পুরোপুরি ব্যবহার না করা হয়, তাহলে সেই নির্বাচনের অর্থ কী? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রিকেটমহলে।
এর মধ্যেই আগুনে ঘি ঢাললেন টিম ইন্ডিয়ার সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে। ম্যাচের পর নীতীশকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য কার্যত বিস্ফোরক। প্রকাশ্যে তিনি বললেন, সুযোগ পেলেও নীতীশ পরিশ্রম করতে পারছে না, বিশেষ কিছু করে দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁর মতে, জাতীয় দলে জায়গা পাকা করতে চাইলে শুধু সুযোগ পেলেই হবে না, সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। ব্যাট হাতে এ দিন নীতীশ অনায়াসে ১৫ ওভার খেলতে পারত বলেও ইঙ্গিত দেন দুশখাতে।
এই মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই আরেকটি প্রশ্ন উঠে আসছে—যদি কোচিং স্টাফ এতটাই নিশ্চিত হন যে নীতীশ প্রত্যাশিত পরিশ্রম বা উন্নতি দেখাতে পারছে না, তাহলে তাঁকে দলে নেওয়াই বা হল কেন? এটা কি শুধুই বিকল্পের অভাব, না কি পরিকল্পনার ঘাটতি? অনেকের মতে, এই মন্তব্য নীতীশের ভবিষ্যতের জন্য সুখকর নয়। বরং কার্যত ছাঁটাইয়ের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
তবে সমালোচনার তীর শুধু নীতীশেই সীমাবদ্ধ নেই। ওয়ানডে ফরম্যাটে দীর্ঘদিন ধরেই ছন্দহীন রবীন্দ্র জাদেজাও। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দু’টি ম্যাচে তাঁর রান মাত্র ৪ ও ২৭। তার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে করেছিলেন ৩২ ও ২৪*। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ওয়ানডে’তে জাদেজার শেষ অর্ধশতরান এসেছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। বল হাতেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুব একটা আশ্বস্ত করছে না—কিউয়িদের বিরুদ্ধে এখনও উইকেটশূন্য, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিন ইনিংসে মাত্র একটি উইকেট।
তবু জাদেজাকে নিয়ে দুশখাতে চিন্তিত নন। তাঁর দাবি, জাদেজার সামগ্রিক পরিসংখ্যান ভালো এবং এখন উইকেট না পেলেও বলের গতি নিয়ে কাজ করছেন তিনি। কোচের মতে, উইকেট পাওয়া শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
সব মিলিয়ে এক দিকে নীতীশকে নিয়ে প্রকাশ্য কঠোরতা, অন্য দিকে জাদেজার ক্ষেত্রে আস্থার বার্তা—এই বৈপরীত্যই আরও স্পষ্ট করে দিচ্ছে টিম ইন্ডিয়ার বর্তমান অলরাউন্ডার সমস্যার ছবি। প্রশ্ন একটাই, ভবিষ্যতের পথে হাঁটতে গিয়ে এই দ্বিচারিতা ভারতীয় দলের পক্ষে কতটা লাভজনক হবে?

