রাজকোটে যেন প্রত্যাশার উল্টো ছবি। ব্যাটারদের স্বর্গ হিসেবে পরিচিত এই পিচেই মুখ থুবড়ে পড়ল ভারতীয় ব্যাটিং। আর সেই দিনে সেঞ্চুরির পালটা সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ভারতের হাত থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিলেন আইপিএলে উপেক্ষিত ড্যারিল মিচেল। তাঁর দুরন্ত শতরানে ভর করেই দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা ফেরাল নিউজিল্যান্ড। আগামী রবিবারের ম্যাচেই এখন নির্ধারিত হবে সিরিজের ভাগ্য।
বুধবারের ম্যাচে টস হারেন ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। প্রথমে ব্যাট করতে নেমেই অস্বস্তিতে পড়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ। রাজকোটের উইকেট সাধারণত একেবারে পাটা হলেও এদিন পিচের আচরণ ছিল অদ্ভুত। বল কখনও উঠে আসছিল, কখনও আবার ব্যাটে পৌঁছতে দেরি করছিল। এই অনিশ্চিত বাউন্সেই সমস্যায় পড়েন ব্যাটাররা।
তবে শুরুটা খারাপ হয়নি ভারতের। প্রথম উইকেটে রোহিত শর্মার সঙ্গে ৭০ রানের জুটি গড়েন শুভমান গিল। কিন্তু ২৪ রানে আউট হয়ে যান রোহিত। তাঁর বিদায়ের পরই ধস নামে। বিরাট কোহলি (২৩), রবীন্দ্র জাদেজা (২৭), নীতীশ রেড্ডি (২০) — কেউই ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ১১৮ রানের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে আবারও ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ হয়ে উঠলেন কে এল রাহুল। এক প্রান্ত আগলে রেখে ধৈর্য ও দৃঢ়তায় ইনিংস গড়েন তিনি। চাপের মুখে দুরন্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নটআউট থাকেন রাহুল। তাঁর লড়াকু শতরানেই ভারত সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছতে পারে। গিলের ব্যাট থেকে আসে একটি হাফসেঞ্চুরি (৫৬)। সব মিলিয়ে ভারতের ইনিংস শেষ হয় ২৮৪ রানে।
এই রান তাড়া করতে নেমে শিশিরের সুবিধা পেলেও শুরুতে সমস্যায় পড়ে নিউজিল্যান্ডও। পিচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে দ্রুত আউট হয়ে যান দুই ওপেনার ডেভন কনওয়ে (১৬) এবং হেনরি নিকোলস (১০)। কিন্তু এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ড্যারিল মিচেল ও উইল ইয়ং।
মিচেল আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন। আইপিএলে অবিক্রিত থেকে যাওয়া এই ব্যাটার এদিন নিজের জাত চেনান। উইল ইয়ংয়ের সঙ্গে ১৬২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। ইয়ং করেন ৮৭ রান, আর মিচেল খেলেন ঝকঝকে শতরানের ইনিংস। ৯টি বাউন্ডারি ও ২টি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংস ভারতীয় বোলারদের কার্যত অসহায় করে তোলে।
বোলিংয়ে চেষ্টা করেও সাফল্য পাননি মহম্মদ সিরাজ। একটি করে উইকেট নেন হর্ষিত রানা, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ এবং কুলদীপ যাদব। তবে মিচেল–ইয়ং জুটির সামনে তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত নির্ভার ভঙ্গিতেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড।
ফলে সিরিজ এখন ১-১। রাজকোটে রাহুলের সেঞ্চুরি যেমন জলে গেল, তেমনই মিচেলের শতরান হয়ে রইল ম্যাচের পার্থক্য। সব উত্তেজনার কেন্দ্রে এখন রবিবারের ফাইনাল ম্যাচ।

