প্রথম এক দিনের ম্যাচে নিউ জ়িল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে কিউয়িরা ৮ উইকেটে ৩০০ রান তোলে। জবাবে ভারত ৪৯ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তুলে নেয় ৩০৬ রান। স্কোরবোর্ডে জয় সহজ মনে হলেও, বাস্তবে ম্যাচটা ভারতের জন্য মোটেই সোজা ছিল না।
নিউ জ়িল্যান্ডের ইনিংসের শুরুটা ছিল বেশ জমাট। ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও হেনরি নিকোলস ধৈর্য ধরে খেলেন। প্রথম উইকেটেই ওঠে ১১৭ রান। নিকোলস ৬৯ বলে ৬২ রান করেন, যেখানে ছিল ৮টি চার। কনওয়ের ব্যাট থেকেও আসে ৫৬ রান। এই জুটি ভাঙেন হর্ষিত রানা। এরপর মিডল অর্ডারে ধাক্কা খেলেও চার নম্বরে নামা ড্যারেল মিচেল ইনিংস গুছিয়ে দেন। ৭১ বলে ৮৪ রানের ঝকঝকে ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা। শেষ দিকে ক্লার্কের ১৭ বলে অপরাজিত ২৪ রানের ক্যামিওতেই ৩০০ পার করে নিউ জ়িল্যান্ড। ভারতের পক্ষে মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ও হর্ষিত রানা প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট নেন। কুলদীপ যাদব পান ১টি উইকেট। চোটের কারণে ওয়াশিংটন সুন্দর পুরো কোটা বল করতে পারেননি, যা কিছুটা চিন্তা বাড়িয়েছে ভারতীয় শিবিরে।
৩০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা আশানুরূপ হয়নি। রোহিত শর্মা ভাল শুরু করেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ২৬ রান করে আউট হন তিনি। শুভমন গিল ধীরে শুরু করে ৫৬ রান করলেও তাঁর ইনিংসে সেই চেনা সাবলীলতা দেখা যায়নি। একবার সহজ ক্যাচ ফসকে যাওয়ায় তিনি বেঁচে যান, গ্লেন ফিলিপসের মতো দক্ষ ফিল্ডারের হাত থেকে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের ভরসা হয়ে ওঠেন বিরাট কোহলি। সহজ-সাবলীল ব্যাটিংয়ে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন তিনি। ৯১ বলে ৯৩ রানের ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছক্কা। শতরান হাতছাড়া হলেও একাধিক রেকর্ড গড়েন কোহলি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৮ হাজার রান পূর্ণ করে কুমার সাঙ্গাকারাকে টপকে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন তিনি। তাঁর সামনে এখন শুধু সচিন তেন্ডুলকর।
কোহলির সঙ্গে দারুণ ছন্দে ব্যাট করেন শ্রেয়স আয়ার। ৪৭ বলে ৪৯ রান করে তিনিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তবে কোহলি আউট হতেই ম্যাচ ফের টানটান হয়ে ওঠে। দ্রুত উইকেট পড়ে যায়, জাডেজা ও শ্রেয়স ফিরে যান। তখন দায়িত্ব নেন লোকেশ রাহুল। চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করে ২১ বলে অপরাজিত ২৯ রান করেন তিনি। হর্ষিত রানাও লড়াই দেখান ২৩ বলে ২৯ রানের ইনিংসে। শেষ দিকে ওয়াশিংটন সুন্দর ৭ বলে ৭ রান করে রাহুলের সঙ্গে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন।
সব মিলিয়ে কোহলির ক্লাস, রাহুলের ধৈর্য আর কিউয়ি ফিল্ডারদের একাধিক ক্যাচ মিসের সুযোগে জয় পেল ভারত। তবে ম্যাচের শেষে ওয়াশিংটনের চোট ভারতীয় শিবিরে কিছুটা হলেও চিন্তার ছায়া ফেলল।

