ভারতীয় শিবিরে ধাক্কা ! প্রথম তিন টি ২০ ম্যাচে নেই ভারতের নির্ভরযোগ্য মিডিল-অর্ডার ব্যাটার

নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ় শুরুর ঠিক আগে বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় ক্রিকেট দল। প্রথম তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলতে পারবেন না তরুণ ব্যাটার তিলক বর্মা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এক সরকারি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘টেস্টিকুলার টরশন’ সমস্যার কারণে তাঁর তলপেটে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এই বিরল কিন্তু জটিল পরিস্থিতিতে অণ্ডকোষে রক্ত সঞ্চালন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত অস্ত্রোপচার না হলে অণ্ডকোষ বাঁচানো সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শে বৃহস্পতিবার সকালে রাজকোটের হাসপাতালে তিলকের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।

বোর্ডের বিবৃতি অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর তিলক এখন স্থিতিশীল ও পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। শুক্রবার তিনি রাজকোট থেকে নিজের শহর হায়দরাবাদে ফিরবেন। শারীরিক উপসর্গ পুরোপুরি কমে গেলে শুরু হবে তাঁর পুনর্বাসন (রিহ্যাব) প্রক্রিয়া। ঝুঁকি এড়াতে বোর্ড ও টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রথম তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হবে। এর পর ধীরে ধীরে ফিটনেস, দক্ষতা বৃদ্ধি ও ক্রিকেট–নির্দিষ্ট অনুশীলনে ফিরবেন তিনি। চিকিৎসকেরা তাঁর উন্নতিতে সন্তুষ্ট হলে তবেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কামব্যাকের সুযোগ মিলতে পারে।

অন্য দিকে, এক দিনের সিরিজ়ের প্রস্তুতিও জোরকদমে শুরু করেছে ভারত। দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটার ইতিমধ্যেই বডোদরায় পৌঁছে গিয়েছেন। বুধবার রাজকোটে তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় তিলককে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বিভিন্ন স্ক্যান রিপোর্ট ও পরীক্ষার ফল বোর্ডের চিকিৎসকদের কাছে পাঠানো হয়। তাঁদের সুপারিশেই দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এক দিনের দলে থাকা শ্রেয়স আয়ার, ঋষভ পন্থ, মহম্মদ সিরাজ ও রবীন্দ্র জাডেজা অবশ্য এখনও দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি। কারণ, তাঁরা নিজ নিজ রাজ্য দলের হয়ে বিজয় হজারে ট্রফিতে খেলছেন। মূলত ৭ জানুয়ারি তাঁদের বডোদরায় পৌঁছোনোর কথা ছিল। তবে ঘরোয়া টুর্নামেন্টে দলের প্রয়োজনে খেলার কারণে তাঁরা একটু দেরিতে যোগ দেন। শুক্রবার সকালে পৌঁছে বিকেলে মাঠে নেমেই অনুশীলন শুরু করেন তাঁরা।

এই সিরিজ়ে ভারতীয় দলের ভারসাম্য ও বেঞ্চ শক্তি কতটা গভীর, তা আবারও পরীক্ষার মুখে পড়ল। তিলকের অনুপস্থিতি প্রথম তিন ম্যাচে ব্যাটিং লাইন–আপে প্রভাব ফেলতে পারে। এখনও বিকল্প ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা না হওয়ায় কৌতূহল ও জল্পনা বাড়ছে। তবে বোর্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে, খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্যই এখন প্রথম অগ্রাধিকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 − two =