শ্রেয়স আয়ারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পথ অবশেষে প্রশস্ত হল। দীর্ঘ চোট–চিকিৎসা ও ফিটনেস পরীক্ষার পর নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ে খেলার ছাড়পত্র পেয়ে গেলেন ভারতের এই নির্ভরযোগ্য মিডল অর্ডার ব্যাটার।
আগামী ১১ জানুয়ারি সিরিজ়ের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই ম্যাচেই শ্রেয়সকে মাঠে দেখা যেতে পারে বলে বোর্ড–সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিজয় হাজারে ট্রফিতে একটি ম্যাচ খেলেই নিজের ফিটনেস প্রমাণ করেছেন তিনি। দলের জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইনিংসেও ছন্দে দেখা গিয়েছে তাঁকে, যা জাতীয় নির্বাচকদের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।
হিমাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে মুম্বইয়ের হয়ে ব্যাট করতে নেমে শ্রেয়স ৫৩ বলে ৮২ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তাঁর ব্যাটিংয়ে কোনও অস্বস্তি বা শারীরিক জড়তা ধরা পড়েনি। ইনিংসজুড়ে ছিল সাবলীল টাইমিং, আগ্রাসী স্ট্রোক–প্লে ও দৌড়ে রান নেওয়ার স্বচ্ছন্দতা। এর ফলে স্পষ্ট হয়েছে যে তাঁর শরীর এখন ৫০ ওভারের ম্যাচের ধকল সামলানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার বডোদরায় জাতীয় দলের বাকিদের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি। সেখানে দলের সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নিয়ে ম্যাচ–প্রস্তুতি আরও ঝালিয়ে নেবেন।
গত অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ়ে ফিল্ডিংয়ের সময় বুকে গুরুতর চোট পান শ্রেয়স। আঘাত লাগে প্লীহাতে, যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। অস্ট্রেলিয়াতেই দীর্ঘ চিকিৎসা চলে তাঁর। এরপর ভারতে ফিরে তিন মাসের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হয় তাঁকে। সেই সময়টা ছিল ভারতীয় মিডল অর্ডারের জন্যও উদ্বেগের। শ্রেয়সের অনুপস্থিতিতে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ়ে রুতুরাজ গায়কোয়াড় নিজেকে ভালোভাবেই মেলে ধরেছিলেন। তবু অভিজ্ঞতা ও চাপের মুহূর্তে স্থির ব্যাটিংয়ের নিরিখে শ্রেয়স ছিলেন ভারতের অন্যতম ভরসা। শ্রেয়সের ফেরায় মিডল অর্ডারের গভীরতা বাড়বে, ব্যাটিং–ক্রমে ভারসাম্য ফিরবে এবং গৌতম গম্ভীর–কোচিং টিমের চিন্তা অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে বিশ্বকাপ–পরবর্তী ওয়ানডে পর্বে নতুন করে দল সাজানোর সময়ে শ্রেয়সের উপস্থিতি নেতৃত্বকে বাড়তি শক্তি দেবে। তাঁর প্রত্যাবর্তন তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় ক্রিকেটের জন্যও স্বস্তির ।

