দু’সপ্তাহের মধ্যেই দু’বার মাঠ বদলাতে হল কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থাকে। বিজয় হজারে ট্রফিতে বিরাট কোহলি ও ঋষভ পন্থের মতো তারকা ক্রিকেটাররা খেলছেন বলেই শুরু থেকেই দিল্লি দলের ম্যাচ ঘিরে বাড়তি নজর ছিল। প্রথমে ঠিক হয়েছিল, দিল্লির সব ম্যাচই হবে বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে অবস্থিত আলুরে। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আধুনিক প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর অভাব থাকায় দ্রুত সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয় কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থা। এরপর ম্যাচ সরিয়ে আনা হয় শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। চিন্নাস্বামীতে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে শুরুতে আশাবাদী ছিল সংস্থা। কারণ সেখানে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে কোনও ঘাটতি নেই।
এমনকী ভাবা হয়েছিল, মাঠের দু’টি স্ট্যান্ড খুলে দিলে দুই থেকে তিন হাজার দর্শক ম্যাচ দেখতে পারবেন। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। কর্নাটক সরকারের পক্ষ থেকে ক্রিকেট সংস্থাকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়। সম্প্রতি চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আইপিএল ট্রফি জয়ের উল্লাসের সময় পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকে স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের কড়া নজর রয়েছে। উপরন্তু, আগামী মার্চ মাসেই সেখানে আইপিএলের ম্যাচ আয়োজনের কথা। তার আগে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে রাজি নয় রাজ্য সরকার।সোমবার কর্নাটক সরকারের নিযুক্ত একটি বিশেষ কমিটি চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে।
তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে এবং মঙ্গলবার তাদের রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়, চিন্নাস্বামীতে নয়, বরং বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে দিল্লির সব ম্যাচ আয়োজন করতে হবে। কর্নাটক রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর থেকেই এই নির্দেশ এসেছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবারই অন্ধ্রপ্রদেশ ও দিল্লি দলের ক্রিকেটারদের এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়। ফলে চিন্নাস্বামীর বদলে সেন্টার অফ এক্সেলেন্সেই অনুশীলন করতে হয় দুই দলকে। কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই মাঠে সব ম্যাচই হবে দর্শকশূন্য। বেঙ্গালুরু পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের বাইরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে, যাতে কোনও ভাবেই সাধারণ মানুষ মাঠের ভিতরে প্রবেশ করতে না পারেন।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে আগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দলীপ ট্রফি, মহিলাদের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারত ‘এ’ দলের ম্যাচ এই মাঠেই আয়োজন করা হয়েছিল। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এই আধুনিক অ্যাকাডেমিতে চারটি বিশ্বমানের মাঠ রয়েছে। ফলে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে কোনও প্রযুক্তিগত বা পরিকাঠামোগত সমস্যার আশঙ্কা নেই। সোমবার রাতে বেঙ্গালুরু পৌঁছেছেন বিরাট কোহলি ও ঋষভ পন্থ। কোহলি শেষ বার ৪ জুন চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন। সেই দিনই আইপিএল জয়ের উল্লাসে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। আবার সেই শহরেই খেলতে নামছেন কোহলি, তবে চিন্নাস্বামীর মাঠে নয়। নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ আইপিএল আয়োজনের কথা মাথায় রেখেই শেষ পর্যন্ত সেন্টার অফ এক্সেলেন্সকেই বেছে নেওয়া হল বিজয় হজারে ট্রফির এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলির জন্য।

