প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে জিততেই হত। সেই কঠিন চাপের ম্যাচে দুরন্ত ব্যাটিং করে পঞ্জাব কিংসকে দারুণ জয় এনে দিলেন অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার ও প্রভসিমরন সিংহ। লখনউ সুপার জায়ান্টসকে সাত উইকেটে হারিয়ে আবারও ছন্দে ফিরল পঞ্জাব। টানা ছয় ম্যাচ হারের পর এই জয় শুধু আত্মবিশ্বাসই ফেরাল না, প্লে-অফের দৌড়েও তাদের টিকিয়ে রাখল। অন্যদিকে, লখনউয়ের হতাশাজনক মরসুম শেষ হল পয়েন্ট তালিকার একেবারে তলায় থেকে।
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে লখনউ ছয় উইকেটে ১৯৬ রান তোলে। শুরুটা খারাপ না হলেও মাঝের ওভারগুলিতে রান তোলার গতি কমে যায়। বড় ইনিংসের অভাবও ভুগিয়েছে তাদের। মহসিন খান ও দিগ্বেশ রাঠীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বোলাররাও পরে ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারেননি। ফলে এই রানও নিরাপদ হয়ে ওঠেনি।
১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই ধাক্কা খায় পঞ্জাব। মহম্মদ শামির বলে শূন্য রানে ফিরে যান প্রিয়াংশ আর্য। কিছুক্ষণ পর কুপার কোনোলিও আউট হন। তখন মনে হচ্ছিল, চাপের মুখে আবার ভেঙে পড়তে পারে পঞ্জাব। কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন প্রভসিমরন ও শ্রেয়স।
প্রভসিমরনের ইনিংসটি শুরুতেই শেষ হয়ে যেতে পারত। অর্জুন তেন্ডুলকরের বাউন্সারে তিনি ভুল শট খেলেছিলেন। বল সহজ ক্যাচ হিসেবে উইকেটরক্ষক ঋষভ পন্থের হাতে গেলেও সেটি ফসকে যায়। তখন মাত্র ২০ রানে ছিলেন প্রভসিমরন। সেই ভুলের বড় মূল্য দিতে হয় লখনউকে। এরপর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন তিনি। একের পর এক আকর্ষণীয় শটে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। মাত্র ৩৯ বলে ৬৯ রান করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন।
অন্যদিকে, অধিনায়ক শ্রেয়স শুরু থেকেই দায়িত্ব নিয়ে খেলেন। চাপের ম্যাচে তাঁর ব্যাটিং ছিল অসাধারণ ঠান্ডা মাথার ও আক্রমণাত্মক। প্রভসিমরনের সঙ্গে ৭৬ বলে ১৪০ রানের বিশাল জুটি গড়ে ম্যাচ পুরোপুরি পঞ্জাবের দিকে টেনে আনেন তিনি। প্রভসিমরন আউট হওয়ার পরও থামেননি শ্রেয়স। তিনি বুঝেছিলেন, শুধু জয় নয়, নেট রানরেটও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই শেষের দিকে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন।
বিশেষ করে মহম্মদ শামির এক ওভারে টানা তিনটি ছক্কা মেরে ম্যাচ দ্রুত শেষ করার বার্তা দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের প্রথম আইপিএল শতরানও পূর্ণ করেন পঞ্জাব অধিনায়ক। মাত্র ৫১ বলে তাঁর শতরান আসে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন ইনিংস নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এই জয়ের ফলে ১৪ ম্যাচে পঞ্জাবের পয়েন্ট দাঁড়াল ১৫। ফলে চাপ বেড়ে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্সের ওপর। এখন কেকেআরকে শুধু জিতলেই হবে না, বড় ব্যবধানে জিততে হবে প্লে-অফে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে।

